‘হেলোউইন’ (Halloween)। পশ্চিমা কালচারে একটি বড় সামাজিক উৎসব। জেনে নিন এই উৎসবের ইতিহাস।

হ্যালোউইন (ইংরেজি: Halloween)। একটি ছুটির দিন। যা প্রতি বছর ৩১শে অক্টোবরে পালিত হয়। হ্যালোউইন উৎসবে পালিত কর্মকাণ্ডের মধ্যে আছে ট্রিক-অর-ট্রিট, ভূতের টুর, বনফায়ার, আজব পোষাকের পার্টি, আধিভৌতিক স্থান ভ্রমণ, ভয়ের চলচ্চিত্র দেখা, ইত্যাদি।

নিজের চোখে দেখা গত কয়েক বছরের ‘হ্যালোউইন’
যা না বললেই নয়। আমার কাছে সচারাচর যে বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়েছে। সেটি হলো দিনটি শুরু হওয়ার প্রায় একমাস আগ থেকে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাস থেকে যখন কোন দোকনপাট, শপিংমল, সুপার মার্কেট, গুরত্বপূণর্ স্থান, অফিস আদালতসহ এমনকি বিভিন্ন যানবাহনের মধ্যে যাই। তখন হঠাৎ করে দেখতে পাই এক জায়গায় অতি ভয়ংকর, বিকৃত চেহারার মানুষ আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আসলে কিন্তু মানুষের মত দেখালেও সেটি সত্যিকারের মানুষ নয়। বানানো। ভয়ংকর প্রাণীর কংকাল, ভূতের ছবি ঝুলানো আছে বিভিন্ন জায়গায়। দেখলে সত্যিই চমকে যাবার মত, ভয় পাবার মত। দেখতে অনেক আজব লাগে। আর ঠিক দু’তিন দিন আগ থেকে শুরু হবে মাস্ক(মুখোশ) পরার কাজ। বাসা থেকে বের হলেই নজরে পড়বে কোন না কোন জায়গায় অতি ভয়ংকর, আজব পোশাকে পরা কতগুলো ছেলে মেয়ে একসাথে বসে গল্প করছে অথবা হেঁটে যাচ্ছে। মুখতো ওদের দেখাই যাবে না। বরং মুখের উপর থাকবে জীব-জন্তুর মাস্ক, ভূতের মাস্ক। আর নির্দিষ্ট দিনটির কথা আর কি বলবো। অর্থাৎ ৩১শে অক্টোবরে কি হবে তাতো বুঝতেই পারছেন। ভূতের নগরী। তবে দিনটিতে বাচ্চাদের বিষয়ে একটু উল্লেখ করার মত একটি চমক বিষয় রয়েছে। যা সত্যিই আমার কাছে অবাক করার মত, অতি উপভোগ্য। সেটি হলো বাচ্চাদের প্রতি এক অন্য রকম ভালোবাসা। যদিও বাচ্চারাও সেদিন ভৌতিক পোশাকসহ নানা রকম বিকৃত পোশাকের সাজগোছ করে থাকে। লক্ষনীয় বিষয় হলো সকল প্রকার দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এমনকি বাসা বাড়ীতেও, আগের দিন থেকে বাচ্চাদের জন্য প্রচুর পরিমানে বিভিন্ন প্রকারের ক্যান্ডি কিনে সংরক্ষণ করতে শুরু করে। আর সবাই অপেক্ষা করতে থাকে পরদিনের জন্য।বাচ্চাদের আগমনের দিকে। বিষয়টি আসলে তেমন না যে, টাকা খরচ হবে অনেক কেন্ডির জন্য। বাচ্চাদের অনেক ক্যান্ডি দিতে হবে। কাজটি সকলে স্বতস্ফুর্তভাবে করে থাকে। বরং ক্যান্ডি শেষ হয়ে গেলে নিজেকে অনেক হতাশ ও লজ্জিত মনে করে। এই দিনের বাচ্চাদের চোখের মুখের হাঁসি দেখলে মনে হবে এটি অনেক উপভোগ্য। অনেক দূর্লভ। বাচ্চারা দোকান বা বাসায় ঢুকেই মুখে শুধু একটি বাক্য বলবে ‘ট্রিক-অর-ট্রিট’ ব্যাস ক্যান্ডি দিতে বাধ্য থাকিবে। দিনটির মধ্যে বিকাল বেলাটা বাচ্চাদের জন্য বেশি আকর্শনীয়। তারা তখন দল বেঁধে একসাথে দোকানে প্রবেশ করে। মনে হবে বাচ্চাদের আনন্দের এক স্বপ্নপূরী এবং তাদের বড় অধিকারের একটি দিন। যাহা ‘চাহিবা মাত্র দিতে বাধ্য থাকিবে’। এ রকম দেখলে কার না ইচ্ছা জাগবে একমূহুর্তর জন্য বাচ্চা হতে। সব বাচ্চারাই তখন বাহিরে। এ এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা, এক অন্যরকম অনুভূতি।

এবার জেনে নেওয়া যাক এর ইতিহাস
আইরিশ ও স্কটিশ অভিবাসীরা ১৯শ শতকে এই ঐতিহ্য উত্তর আমেরিকাতে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলিও হ্যালোউইন উদযাপন করা শুরু করে। বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বের অনেকগুলি দেশে হ্যালোউইন পালিত হয়, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, আয়ারল্যান্ড, পুয়ের্তো রিকো, এবং যুক্তরাজ্য। এছাড়া এশিয়ার জাপানে এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেও কখনো কখনো হ্যালোউইন পালিত হয়।
আইরিশ, যুক্তরাজ্য, ওয়েলশ সম্প্রদায়ের লোকেরা বিশ্বাস করতো যে প্রত্যেক নতুন বছরের আগের রাতে (৩১শে অক্টোবর) সাহেইন, মৃত্যুর দেবতা, আঁধারের রাজ পুত্র, সব মৃত আত্মা ডাক দেয়। এই দিন মহাশূন্য এবং সময়ের সমস্ত আইনকানুন মনে হয় স্থগিত করা হয় এবং জীবিতদের বিশ্ব যোগদান করতে মৃত আত্মাদের অনুমোদন করে। তারা আরও বিশ্বাস করতো যে মৃত্যুর কারণে তারা অমর যুবক হয়ে একটি জমিতে বসবাস করতো এবং আনন্দে ডাকা হতো “Tir nan Oge”। মাঝে মাঝে বিশ্বাস করতো যে স্কটল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড অঞ্চলের ছোট পাহাড়ে কখনো কখনো মৃতরা পরীদের সাথে থাকে। একটি লোককাহিনী থেকে বর্ণিত আছে যে সমস্ত মৃত ব্যক্তিরা ৩১শে অক্টোবর রাত্রিতে জীবিতদের বিশ্বে আসে আগামী বছরের নতুন দেহ নেওয়ার জন্য। এজন্য গ্রামবাসীরা এই খারাপ আত্মাদের থেকে বাচাঁর জন্য ব্যবস্থা নেয়। এই প্রথাটি ছিল পবিত্র বেদি আগুন বন্ধ করা এবং নতুন আগুন জ্বালানো হতো (যেটি নতুন বছরের আগমন প্রতীক হিসাবে ছিল) পরবর্তী প্রভাতে। আইরিশ, যুক্তরাজ্যবাসী কেল্টদিগের পরোহিতরা তারা মিলিত হতো একটি অন্ধকার ওক (পবিত্র গাছ হিসেবে বিবেচনা করা হতো) বনের ছোট পাহাড়ে নতুন আগুন জ্বালানোর জন্য এবং বীজ ও প্রাণী উৎসর্গ করতো। আগুনের চারিদিকে নাচতো এবং গাইতো প্রভাত পর্যন্ত, পথ অনুমোদন করেতো সৌর বছর এবং আঁধার ঋতু্র মধ্যে। যখন প্রভাত হয়, আইরিশ, যুক্তরাজ্যবাসী কেল্টদিগের পরোহিতরা প্রতি পরিবার থেকে জ্বলানো অগ্নির কয়লা পরিধান করতো।

পাঠকদের উদ্দেশ্যে
প্রিয় বন্ধু মহলের পাঠকবৃন্দ, প্রতি বছর এই দিনে, দিবসটি অনেক জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে, উত্তেজনার মধ্য দিয়ে নিউ ইয়র্কে পালিত হচ্ছে। গত কয়েক বছর নিজের চোখে দেখে আসতেছি। তাই এটি নিয়ে মনের মধ্যে অনেক প্রশ্ন ছিল। কিছুটা ধারণা থাকলেও, আরও একটু বেশি জানার ইচ্ছা জাগে। আর এ লক্ষে্য সাহায্য চাইলাম ‘গুগল’ মামার কাছে। নিরাশ করলো না। তাই ‘গুগল’ মামার কাছে কৃতজ্ঞ। চিন্তা করলাম, নিজে জানলাম। আমার মত অনেকেরই জানার ইচ্ছা আছে এ বিষয়ে। তাই সকলের উদ্দেশ্যে লিখলাম ট্রেনে অলস সময় কাটানোর সময়। আর আজ শেয়ার করলাম।

শেষকথা
বন্ধুগণ আমি কোন পেশাদার লেখক নয়। আমি জানি আমার এ লেখায় অনেক ভুল ক্রটি রয়েছে। তাই ক্ষমা চাচ্ছি। তারপরেও আমার এই লেখাটি পড়ে যদি কেউ বিন্দুমাত্র ধারণা পেয়ে থাকেন। তাহলেই আমি সার্থক। এই আমার বিশ্বাস। অনেক সময় নষ্ট করে, ধর্য্য ধরে যারা আমার এই লেখাটুকু পড়েছেন। তাদের সকলের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। অবশেষে, আবারও দেখা হবার প্রত্যাশায়। এইদিন এইসময়ে। সবার সুখ সুন্দর কামনা করছি। !!! মাহ্ফুজ !!! নিউ ইয়র্ক।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s